নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মেয়েকে অপহরণ ও গুম করার মিথ্যা মামলা করার অপরাধে মজিবুর রহমান (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মজিবুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি নুরুল কবীর রুবেল। দণ্ডপ্রাপ্ত মজিবুর রহমান কলমাকান্দা উপজেলার গনিয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি মজিবুর রহমান একই গ্রামের খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে তার মেয়েকে অপহরণ করে গুম করার অভিযোগে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় এবং তিনি দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস কারাবাস করেন।
পরবর্তীতে মজিবুর রহমানের মেয়ে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসেন এবং জানান যে, সৎ মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কাজ করছিলেন। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বলে তিনি আদালতে ও পরিবারকে জানান। এই সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ৬ মে আদালত থেকে খালাস পান ভুক্তভোগী খোকন মিয়া। পরবর্তীতে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে গত ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা করেন খোকন মিয়া। মোট ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।


























