কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন নিয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বহু আলোচিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া ঘিরে দেশের আইন অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
এই মামলায় বর্তমানে মোট চারজন আসামি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ Khan। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ পলাতক থাকা বাকি সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত বা স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের জামিন আবেদনের ওপর আইনি শুনানি সম্পন্ন হয়। ফলে আজকের এই শুনানিতে অভিযোগ গঠনের পাশাপাশি ওই জামিন আবেদনগুলোর বিষয়েও ট্রাইব্যুনাল তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ এই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এর ঠিক পরপরই রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন পক্ষ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গঠনের এই ধাপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাইলফলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


























