ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং বিরোধী দলগুলোর গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিরোধী দলগুলোর স্পষ্ট অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রত্যক্ষ ইশারায় আসন্ন নির্বাচনগুলোতে বিজেপিকে জেতাতেই এই সুপরিকল্পিত নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিরোধী শিবির এবং বিভিন্ন সমাজকর্মীদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের নাগরিকত্ব বাতিল করে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়াই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে এবং স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী কমিশনে তিন সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু গত দশ মাসে অন্তত ১৪ বার সান্ধু এবং জোশী লিখিতভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন নির্দেশের বিরোধিতা করলেও তা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট নির্দেশের ক্ষেত্রে একদিনে চারবার পর্যন্ত আপত্তি জানিয়েছেন তারা। দুই কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় এই কাজকে ‘অবৈধ’ এবং ‘অননুমোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা ভারতের ক্যাবিনেট সচিবেরও দ্বারস্থ হন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কীভাবে কারচুপি চলছে, তার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য যে ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করতে হয়, তাতে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বেআইনিভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নতুন ভোটারদের জানাতে হচ্ছে, পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় তাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদির নাম ছিল কি না। কমিশনার সান্ধুর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যা বিরোধী রাজনীতিকদের মতে, ঘুরপথে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি কার্যকর করে মুসলিমদের নিশানা করারই এক প্রচ্ছন্ন রূপ। এর পাশাপাশি ভোটার তথ্যভাণ্ডারের গোটা ব্যবস্থাটি























