হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট দ্বিতীয় দফায় পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার পাসপোর্ট হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণ দেখিয়ে নতুন আবেদনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমসহ গুরুতর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব অনিয়ম এড়াতে প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি আরোপ করা না হলেও, দ্বিতীয় বা পরবর্তী প্রতিবারের জন্য নির্ধারিত ফি-এর সাথে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাঠাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না পাওয়া গেলে আবেদনকারী জিডির অনুলিপি সংযুক্ত করে পুনঃইস্যুর আবেদন জমা দিতে পারবেন; যা প্রাপ্তির পর পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। তবে তদন্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা ব্যক্তি ভিসা সংক্রান্ত কাজের কথা বলে অন্যায়ভাবে পাসপোর্ট আটকে রেখেছে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে কর্তৃপক্ষ পূর্বের পাসপোর্টটি বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারবে।
পাসপোর্ট হারানোর ঘটনা ঘটামাত্র আবেদনকারীকে অনতিবিলম্বে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) ডেটা হালনাগাদ করবে এবং প্রয়োজনবোধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে নোটিফিকেশন প্রদান করবে। অন্যদিকে প্রবাসে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে অবহিত করার পাশাপাশি অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে; পরবর্তীতে মিশন সার্কুলার জারি করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা নেবে।
পুনঃইস্যুকৃত নতুন পাসপোর্টের ডেটাপেজে ‘PREVIOUS PASSPORT IS REPORTED TO BE LOST’ কথাটি স্পষ্টভাবে মুদ্রিত থাকবে। একই সাথে আবেদনের সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য (যেমন—নিজের নাম, জন্ম তারিখ, পিতা ও মাতার নাম) কোনোভাবেই সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না; তবে বৈধ ও বিধিভিত্তিক সংশোধনের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। পরিপত্রে আরও জানানো হয়, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট শনাক্তযোগ্য অংশ জমা সাপেক্ষে পুনঃইস্যু করা যাবে, তবে সম্পূর্ণ নষ্ট হলে তা হারানো পাসপোর্টের নিয়মে প্রক্রিয়াভুক্ত হবে। এছাড়া একবার হারানো বা বাতিল হিসেবে নিবন্ধিত কোনো পাসপোর্ট পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া গেলেও তা আর কোনোভাবেই সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না।


























