বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। চিত্রনায়কের অপমৃত্যু মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই নির্দেশ দেন। তিনি অপমৃত্যু মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন। এই আদেশের ভিত্তিতেই ওই দিন মধ্যরাতে সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরের দিন, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর), ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলার এজাহার আমলে নেন এবং রমনা মডেল থানা পুলিশকে এর তদন্তভার দেন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হককে। এছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন-সহ মোট ১১ জন। এজাহারে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে সালমান শাহের পরিবার ও স্বজনরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করে আসছিলেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এটিকে আত্মহত্যা বললেও, পরিবার তা কখনোই মেনে নেয়নি।
সালমান শাহের মামা আলমগীর কুমকুম সাংবাদিকদের কাছে তার দীর্ঘদিনের দাবির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সালমান শাহর বাবা নিজে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনিও অপমৃত্যুকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। এত বছর পর সেই কাজটি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, প্রমাণ হবে এটা হত্যা।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জনপ্রিয় এই অভিনেতার মরদেহ পাওয়া যায়। তার অকালমৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া জটিল রহস্যের জট এবার আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলার তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
















