মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তিনি এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে আলোচনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
ট্রাম্প বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঠিক কারা অংশ নিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দারুণ বৈঠক ছিল… একটি চুক্তিতে পৌঁছানো তাদেরই স্বার্থে।’
সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ইরান কেন চুক্তি করবে না, তা ভাবতেও পারি না।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘একটি বিকল্প রয়েছে সম্পূর্ণ ধ্বংস। আর অন্য বিকল্প হলো সম্ভাব্য সমৃদ্ধি। দেশটি একটি মহান দেশে পরিণত হতে পারে।’
বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে ট্রাম্প জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফকে আহ্বান জানান। তবে আলোচনায় ঠিক কারা অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। তারা ইরানের মূল প্রতিনিধিদলের অংশ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি খুবই আশাবাদী।’ পরে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের খুব ভালো একটি বৈঠক হয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়। তবে নিঃসন্দেহে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো তাদের স্বার্থেই।’ তবে ইরান এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।























