যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে সম্ভাব্য রেকর্ডমাত্রার শক্তিশালী ‘এল নিনো’র কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। আসন্ন শরৎ ও শীত মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র বাতাস, পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাত, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং উপকূলীয় এলাকায় মারাত্মক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা মাথায় রেখে এই আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী আধুনিক সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় বালুর বস্তা এবং পানি নিষ্কাশনের শক্তিশালী পাম্পসহ জরুরি ব্যবহারের সামগ্রী আগে থেকেই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে মজুত করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আসন্ন মৌসুমে প্রলয়ঙ্করী এই এল নিনোর প্রভাবে একাধিক দফায় প্রবল বৃষ্টিপাত ও সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট সাধারণ বন্যার পাশাপাশি ভয়াবহ ভূমিধস, কাদামাটির স্রোত, সাগরের বিশাল ঢেউ এবং উপকূলীয় নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এমনকি রাজ্যজুড়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শরৎ ও শীতকালে এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ ধারণ করার আশঙ্কা ৯০ শতাংশের চেয়েও বেশি। এমনকি ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী এটি সর্বকালের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো মানেই ক্যালিফোর্নিয়ায় নিশ্চিতভাবে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি বা তুষারপাত হবে এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, তবে এই ধরনের আবহাওয়ার ধরন সাধারণত রাজ্যটিতে অধিক শক্তিশালী ও ঘনঘন প্রাকৃতিক ঝড়ের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই কর্তৃপক্ষ এবার কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করছে। ঘোষিত এই জরুরি অবস্থার আওতায় রাজ্যের পরিবহন বিভাগ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনে কিছু সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং দ্রুত তুষার অপসারণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনে ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকেও উদ্ধারকাজ, প্রকৌশলগত সহায়তা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রমে মাঠে নামানো হবে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এরই মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সাম্প্রতিক সামুদ্রিক ঝড় এবং সাগরের অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে উপকূলীয় ভূমিক্ষয়, আকস্মিক প্লাবন এবং বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আসন্ন শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, প্রলয়ঙ্করী কোনো ঝড় আঘাত হানার পর কেবল প্রতিক্রিয়া দেখানোর নীতি থেকে সরে এসে তার প্রশাসন এবার দুর্যোগ আসার আগেই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে চায়। এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জরুরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ উপকরণ মজুত করা, ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরুরি সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বেশি জোরদার করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।























