মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় এক গৃহবধূর স্পর্শকাতর ও গোপনে ধারণ করা দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে চার সন্তানের জনক এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম নূর আলম শেখ (৩২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলগাতী এলাকার মৃত ইয়াকুব আলী শেখের সন্তান। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল আটটার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নূর আলম শেখ টংগিবাড়ী থানা এলাকার একটি জামে মসজিদে টানা প্রায় ১৮ মাস যাবত ইমামতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি স্থানীয় এক ৬ বছর বয়সী শিশুশিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে গিয়ে সরাসরি ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। সেই সুবাদে সুকৌশলে ও নানা প্রলোভনে শিশুটির মায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সৃষ্টি হলে তিনি কৌশলে গোপন মুহূর্তে ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
পরবর্তীতে প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ইমামতির পদ থেকে বরখাস্ত করে এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। তবে এলাকা ছাড়লেও ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী গৃহবধূকে নিয়মিত ফোন করে মানসিক নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন এবং পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের জন্য অনৈতিক চাপ দিতে থাকেন।
ঘটনার শেষ পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবারেরই এক সদস্যের কাছে অনলাইনে পাঠায় এবং দেখা না করলে সেই ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি প্রদান করে।
এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটি পুলিশকে জানালে গত রোববার ডিবির একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযানে নামে। অভিযান শেষে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীনগর থানা এলাকার একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি পুরোপুরি স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে টংগিবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল।


























