দীর্ঘ আট বছর পর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর দেশের ২২৯টি চা বাগানে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুক্রবার নির্বাচন কমিশন এই তফসিল ঘোষণা করে।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালে পরবর্তী দুটি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ৭ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ১০ ও ১১ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১১ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্রের ওপর আপিল ও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর। ১৩ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১৪ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই দিন থেকে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়ে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির প্রাথমিক কার্যকরী পরিষদ, বিভিন্ন ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা জানান, চা শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিজয় হাজরা আরও বলেন, তারা একটি অবাধ, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন। তিনি আশা করেন, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়, মজুরি ও অধিকারসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং বাগান পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।






















