গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, খাদ্য ও ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ, আবাসিক এলাকায় নির্বিচার হামলা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনার অনেকগুলোই জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তির নামে এসব নৃশংসতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
‘আমি আর নীরব থাকতে পারছি না’ শিরোনামের ওই বক্তব্যে আভদার শাইলোভস্কি নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, পাঁচ বছর ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে তিনি আর চাকরি চালিয়ে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনী ছেড়ে পূর্বপুরুষদের দেশ পোল্যান্ডে চলে যান।
তার বক্তব্যে গাজায় দায়িত্ব পালনের সময় ট্যাংক থেকে তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ, বেকারি ও ত্রাণকেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ লোকজনের ওপর হামলা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের মতো ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, সহকর্মীদের কাছে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে কাপুরুষ বলা হতো।
আভদার শাইলোভস্কির সামরিক পরিচয়, মেজর পদমর্যাদা এবং পোল্যান্ডে চলে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। পোল্যান্ডের একটি ওয়েবসাইটে গত ২৭ অক্টোবর বক্তব্যটি পুনঃপ্রকাশিত হয়, যেখানে মূল সূত্র হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের উল্লেখ রয়েছে। যদিও তার নামে প্রচারিত বক্তব্যটির ব্যক্তিগত সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত না, তবে এতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে মিলে যায়—এমন বহু ঘটনার প্রমাণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
শাইলোভস্কির বক্তব্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগগুলোর একটি হলো, গাজায় খাদ্য ও ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবর্ষণ। তিনি দাবি করেছেন, ট্যাংক থেকে বেসামরিক মানুষের ভিড়ে গোলা ছোড়া হতো। কখনো বেকারির সামনে, কখনো খাদ্য ও ত্রাণবাহী গাড়ির পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হতো।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রতিবেদনেও এ ধরনের ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) গত ২৭ মে খাদ্য বিতরণ শুরু করার পর ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।























