জীবনযাত্রার ক্রমাগত অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট হ্রাস এবং যুদ্ধ ও সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর তীব্র প্রতিবাদে গোটা ইতালিজুড়ে একদিনের ব্যাপক সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্রেড ইউনিয়নসমূহের (ইউএসবি) জোরালো আহ্বানে আয়োজিত এই ধর্মঘটের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত মূল দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ করা, বর্তমান মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা এবং জনসেবা ও শিক্ষা-গবেষণা খাতে বরাদ্দ লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ানো। ধর্মঘট পালনকারীদের মূল অভিযোগ, সাধারণ জনগণের সামাজিক নিরাপত্তামূলক মৌলিক খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান না রেখে সামরিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে রাজধানী রোমসহ দেশের বড় বড় নগরীগুলোতে পূর্ববর্তী বিক্ষোভসমূহের সময় ঘটা বিশৃঙ্খল ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির মেলোনি সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার নিজের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকতে ও আন্দোলন স্তব্ধ করতে তরুণ আন্দোলনকারী এবং অভিবাসী ব্যাকগ্রাউন্ডের যুবকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা বানাচ্ছে, যা জাতীয় বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে। বিপরীতপক্ষে, সরকারের তরফ থেকে জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আন্দোলনের নামে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি সাধন কঠোরভাবে দমন করা হবে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বাজেট নীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার স্থায়ী সমাধান না এলে এই চলমান সামাজিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হয়ে আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।























