ভারতের গুজরাট রাজ্যে অননুমোদিতভাবে গরু জবাই এবং ২৭৭ কেজি গরুর মাংস সংরক্ষণের অভিযোগে আনীত মামলায় তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন গান্ধীনগর জেলার একটি অতিরিক্ত দায়রা আদালত। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) অতিরিক্ত দায়রা জজ বি আর রাজপুত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি হলেন— ওয়াসীম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি এবং আসফাক বাহেলিম। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ‘মনুস্মৃতি’ ও বৈদিক সাহিত্যের নানা উদ্ধৃতি তুলে ধরে গরুকে কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং বস্তুগত সমৃদ্ধি ও সনাতন ধর্মের অন্যতম পবিত্র ভিত্তি এবং ‘জগতের মাতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ২৭৭ কেজি গরুর মাংস, কসাইয়ের অস্ত্র এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রসিকিউশন পক্ষ মোট ৫৪ জন সাক্ষী এবং ১৮টি প্রাতিষ্ঠানিক নথি উপস্থাপন করে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়, যার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি পুলিশ ও সরকারি আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, রাজ্যটিতে গো-হত্যা ও মাংস কেনাবেচায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে আইন সংশোধনের পর ২০১৭ সালে ‘গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৪’ পুনরায় কঠোরভাবে সংশোধন করে ভারতে প্রথম রাজ্য হিসেবে গো-হত্যার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মাংস পরিবহনে ১০ বছরের সাজার বিধান যুক্ত করা হয়।























