ইউরোপের দেশ ইতালির বারি শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস ও ইলেকট্রনিক স্কুটারের মুখোমুখি মর্মান্তিক সংঘর্ষে জিয়াউর রহমান (৩০) নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন।
নিহত প্রবাসী জিয়াউর রহমানের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। তিনি ইতালির বারি শহরের স্থানীয় একটি মোবাইল ফোনের দোকানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করতেন।
ইতালির স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘লা রেপুব্লিকা’ এবং ‘কোতিদিয়ানো দি পুলিয়া’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার বিকেলে বারি শহরের কেন্দ্রস্থলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিনের মতো নিজ কর্মক্ষেত্র তথা মোবাইল দোকানের কাজ শেষ করে একটি ইলেকট্রনিক স্কুটার বা ‘মনোপাত্তিনো’ চালিয়ে নিজের আবাসিক বাসায় ফিরছিলেন জিয়াউর। পথিমধ্যে শহরের ব্যস্ততম ‘কোরসো ভিত্তোরিও এমানুয়েলে’ ও ‘পিয়াচা মাসসারি’ এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে গণপরিবহন পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আমতাব’-এর একটি বিশাল বাসের সঙ্গে তার স্কুটারটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বাসটি হঠাৎ ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটারটি বাসটির ঠিক নিচে চাপা পড়ে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই বাংলাদেশি যুবকের করুণ মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার তীব্র খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় ট্র্যাফিক পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। পাশাপাশি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে গণপরিবহন সংস্থা ‘আমতাব’। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় নিহত প্রবাসী যুবকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও পেছনের নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং স্থানীয় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
আমতাব কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি তার নির্দিষ্ট নির্ধারিত রুট ও ট্রাফিক নিয়ম মেনেই চলাচল করছিল, তবে ঘটনার অপ্রত্যাশিত আকস্মিকতার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহত জিয়াউর রহমান উন্নত জীবনের সোনালী স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে দেশ ছেড়ে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে ইতালি পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির সার্বিক সহায়তায় তাঁর নিথর মরদেহ দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


























