ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে দেশটির আরব ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো। ৪০ লাখেরও বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে তাঁদের এই অভাবনীয় উত্থান দেশটির ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো যেখানে মাত্র ১০টি আসন পেয়েছিল, এবার তা প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রধান আরব নির্বাচনী জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ একাই ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) জয় পাচ্ছে ৬টি আসনে। ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে এই দুই দলের সম্মিলিত আসন দাঁড়াচ্ছে ১৯-এ।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। এবার দেশটিতে রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০২২ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে বেদুইন অধ্যুষিত অঞ্চল ও আরব এলাকাগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বিপরীতে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৪টি আসন। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, শাস ৭টি, ওজমা ইয়েহুদিত ৭টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পাচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পাচ্ছে ৪৭টি আসন। ডান কিংবা মধ্যপন্থী কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে আরব দলগুলো এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বা ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।























