সৌদি আরবের চারটি সুনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় একযোগে একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী ড্রোন প্রয়োগ করে হামলা চালানোর জোরালো দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এই হামলার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে বলা হয়, তাদের মূল আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক কার্যালয় এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা প্রতিপক্ষের সামরিক বিমান।
এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় সৌদি-সমর্থিত সামরিক বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে সফলভাবে নস্যাৎ ও প্রতিহত করার দাবিও তুলে ধরেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে হুতিদের অফিসিয়াল সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব বিস্ফোরক দাবি সংবলিত তথ্য প্রকাশ করেন।
মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সুনির্দিষ্ট ভবন লক্ষ্য করে তাদের বিশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্য একটি আলাদা বার্তায় সারি দাবি করেন, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন দিয়ে সফল আক্রমণ চালানো হয়েছে।
তিনি আরও তথ্য প্রদান করেন যে, একই সঙ্গে নাজরান বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত অঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত সামরিক পরিবহন বিমানগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বানিয়ে আরও দুটি পৃথক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি নাজরান বিমানবন্দরে এবং অন্যটি কিং খালিদ বিমানঘাঁটির সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে সারি দাবি করেন।
তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হলেও এর বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিগত জুলাই মাস থেকে সৌদি ভূখণ্ডে নিজেদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বহুগুণ বাড়িয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পর্যালোচনায় প্রকাশ, চলতি অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের সাধারণ বেসামরিক বিমানবন্দর, প্রধান প্রধান তেল শোধনাগার বা স্থাপনা এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে হামলার মূল নিশানা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিগত ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারকে প্রত্যক্ষ সহায়তা দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট।
অন্যদিকে, হুতিদের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের কাছ থেকে নানামুখী সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অস্ত্র সহযোগিতা পাওয়ার দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইয়েমেনের ঐতিহাসিক রাজধানী সানা এবং দেশটির একটি বিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তভাবে নিজেদের কবজায় ধরে রেখেছে এই গোষ্ঠীটি।























