যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ওয়াশিংটনের নীতিমালায় প্রভাব বিস্তার করতে বড় অঙ্কের অর্থ ঢালছেন দেশের শীর্ষ ধনীরা, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অলাভজনক সংগঠনগুলো। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক হাত ঘুরে এই অর্থ ছড়ানোর কারণে আসল অনুদানদাতাকে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়া শীর্ষ ৫০ জন দাতা ও প্রতিষ্ঠান মিলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ বা ১৬৭ কোটি ডলার এসেছে রিপাবলিকানপন্থি দাতাদের কাছ থেকে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতারা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি অর্থ এসেছে বিভিন্ন বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ও দ্বিদলীয় খাত থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনি চক্রে একজন ব্যক্তি প্রার্থীর প্রচারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার দিতে পারলেও, তালিকাভুক্তরা শত শত মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান দিয়েছেন। এর মূল কারণ হলো, এই অর্থের বড় অংশই সরাসরি প্রার্থীদের তহবিলে না গিয়ে ‘সুপার পিএসি’ নামক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ফান্ডে জমা হয়েছে, যেগুলোর অনুদান সংগ্রহের কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই।
২০১০ সালের আদালতের দুটি রায়ের পর থেকেই মূলত এই ধরনের স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য শুরু হয়। যদিও সুপার পিএসিগুলোকে তাদের দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয়, তবে কিছু অলাভজনক অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উৎস গোপন রাখার সুযোগ পাওয়ায় পেছনের আসল কারবারিরা আড়ালেই থেকে যায়।























