ভারতের তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কামপট্টি সংশোধনাগার থেকে একসঙ্গে ১৭ বন্দি পালিয়ে গেছে। জেলের ভেতর অসুস্থতার খবর দিয়ে জেলকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর পলায়নের ঘটনা ঘটে সোমবার রাতে। এই ঘটনায় জেলখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলাতকদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি ১৩ জনের খোঁজে একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদিনপট্টির (অ্যান্ডিপট্টি) কাছে ওই সংশোধনাগারে ঘটনাটি ঘটে।
একই কক্ষে বন্দি ছিলেন ১৭ জন বিচারাধীন আসামি। তাদের মধ্যে একজনের মৃগীরোগের খিঁচুনি উঠেছে—এমন চিৎকার শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনজন জেলকর্মী কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে বন্দিরা মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় জেলকর্মী থাঙ্গাপান্ডির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে থেনির পুলিশ সুপার প্রভীন গৌতমসহ পদস্থ কর্মকর্তারা সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন। দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশ বিভাগের আইজি বিজয়েন্দ্র বিদারি পলাতকদের ধরতে ১৭টি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেন। এর পরই শতাধিক পুলিশকর্মী অভিযানে নামেন এবং আশপাশের জঙ্গলে চিরুনি অভিযান শুরু হয়।
মঙ্গলবার সকালে জেলের কাছের জঙ্গল থেকে প্রভীন, শিলাম্বরাসন, রাজকুমার ও রাজা সিকান্দর নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের ধরতে থেনি, মাদুরাই ও দিন্দিগুল এলাকায় তল্লাশি চলছে। কেরালার ইদুক্কি সীমান্তেও বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি। এই অভিযানে স্নিফার ডগ ও ড্রোন ব্যবহার করছে পুলিশ।
এর আগে ১৯৯৫ সালে ভেলোর দুর্গের বিশেষ বন্দিশিবির থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়েছিলেন ৪৩ জন সন্দেহভাজন এলটিটিই সদস্য। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর তামিলনাড়ুতে এত বন্দির একসঙ্গে পালানোর ঘটনাকে অন্যতম বড় নিরাপত্তা ত্রুটি বলে মনে করা হচ্ছে।























