রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থানে মাদক সেবন ও কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একাধিক আস্তানা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারী হুইল লোডার ব্যবহার করে ছোট ছোট ঘরের আদলে নির্মিত মাদকসেবীদের তৈরি অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়ার ওই রেললাইনের ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে পুরো এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, যাতে করে উক্ত স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে সাধারণ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, “ঘুন্টিঘরসংলগ্ন সম্পূর্ণ এলাকা ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে সাধারণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে রেললাইনের পাশজুড়ে দীর্ঘদিনের যে মাদকের আড্ডা গড়ে উঠেছিল, সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উচ্ছেদ সম্পন্ন হলে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও সাধারণ গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে।”
ওসি আরও উল্লেখ করে বলেন, এই অভিযানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের আধুনিক যন্ত্রপাতি, সাবেক স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, থানা পুলিশ এবং এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা একযোগে অংশ নিয়েছেন। পুরো উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ অক্টোবর উক্ত ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ পার্শ্ববর্তী মাদকপ্রবণ বিভিন্ন স্পটে একযোগে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছিল যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। সেই সফল অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৪ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ অঞ্চলের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ওই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছিল।
এর পূর্বে এই ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় এক বিশেষ মাদকবিরোধী পরিদর্শনে গিয়ে সরাসরি নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও তৎসংলগ্ন এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ মাদক কেনাবেচা এবং সেবনের আখড়া হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সেখানে সময় সময় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আবারও পুরনো কায়দায় মাদকসেবী ও চিহ্নিত কারবারিদের আনাগোনা তৈরি হতো।
এমনকি কয়েক মাস আগে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে (পরিদর্শক) গুলি করার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে একের পর এক একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। তা সত্ত্বেও সেখানে মাদক কেনাবেচা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নিকট সাধারণ মানুষের তরফ থেকে ধারাবাহিক অভিযোগ আসছিল বলে জানা গেছে।


























