Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে এক ভুক্তভোগী নারীর আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও এবং স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবু সাঈদ (৩৬) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সংবেদনশীল এই ঘটনায় অপরাধে সরাসরি জড়িত আরও দুজনকে অভিযুক্ত আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের সামনে থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদকে সশরীরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসা’-র কর্মরত শিক্ষক এবং উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের রোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের ছেলে।

মামলার প্রাথমিক বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর মাত্র আট বছর বয়সী শিশু কন্যাসন্তান লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রতিদিন নিজের কন্যাসন্তানকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার যাতায়াতের সুবাদে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ফরিদুল নামের অপর এক শিক্ষকের সাথে ওই নারীর পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাঁদের দুজনের মধ্যে গভীর রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংবেদনশীল ও অশ্লীল কথাবার্তা আদান-প্রদান হতো।

দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক ফরিদুল তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ওই নারীর একাধিক অশ্লীল ভিডিও ও স্ক্রিনশট সহকর্মী শিক্ষক আবু সাঈদের ফোনে কৌশলে পাঠিয়ে দেন। এরপর আবু সাঈদ সেই সংবেদনশীল ফাইলগুলো একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক ‘মোহন মাস্টার’-এর মোবাইলে ফরোয়ার্ড করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টার যোগসাজশ করে ওই নারীর ব্যক্তিগত ফোনে সরাসরি সেসব ভিডিও ও স্ক্রিনশট পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতে থাকেন। ইন্টারনেটে এসব ভিডিও স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত চক্রটি দুই দফায় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে সর্বমোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে অর্থ আদায়ের পরও চক্রটি পুনরায় তাকে ব্ল্যাকমেইল করে নতুন করে আরও টাকা দাবি করলে অতিষ্ঠ হয়ে ওই নারী অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার অপর দুই অপরাধী আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের বিষ বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, “অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে তিনজনের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং আত্মগোপনে থাকা অপর দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে এক ভুক্তভোগী নারীর আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও এবং স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবু সাঈদ (৩৬) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সংবেদনশীল এই ঘটনায় অপরাধে সরাসরি জড়িত আরও দুজনকে অভিযুক্ত আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের সামনে থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদকে সশরীরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসা’-র কর্মরত শিক্ষক এবং উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের রোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের ছেলে।

মামলার প্রাথমিক বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর মাত্র আট বছর বয়সী শিশু কন্যাসন্তান লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রতিদিন নিজের কন্যাসন্তানকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার যাতায়াতের সুবাদে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ফরিদুল নামের অপর এক শিক্ষকের সাথে ওই নারীর পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাঁদের দুজনের মধ্যে গভীর রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংবেদনশীল ও অশ্লীল কথাবার্তা আদান-প্রদান হতো।

দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক ফরিদুল তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ওই নারীর একাধিক অশ্লীল ভিডিও ও স্ক্রিনশট সহকর্মী শিক্ষক আবু সাঈদের ফোনে কৌশলে পাঠিয়ে দেন। এরপর আবু সাঈদ সেই সংবেদনশীল ফাইলগুলো একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক ‘মোহন মাস্টার’-এর মোবাইলে ফরোয়ার্ড করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টার যোগসাজশ করে ওই নারীর ব্যক্তিগত ফোনে সরাসরি সেসব ভিডিও ও স্ক্রিনশট পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতে থাকেন। ইন্টারনেটে এসব ভিডিও স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত চক্রটি দুই দফায় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে সর্বমোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে অর্থ আদায়ের পরও চক্রটি পুনরায় তাকে ব্ল্যাকমেইল করে নতুন করে আরও টাকা দাবি করলে অতিষ্ঠ হয়ে ওই নারী অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার অপর দুই অপরাধী আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের বিষ বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, “অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে তিনজনের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং আত্মগোপনে থাকা অপর দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”