পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য) ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাম্প্রতিক তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার সংকটের জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি ‘প্রধান উৎস’ হিসেবে দায়ী করেছে মক্কা জোটের তিন প্রধান সদস্য দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের বিদ্যমান নীতি ও আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অবিচার ও ক্ষোভের অনুভূতিকে বহুগুণ গভীর করে তুলেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। একই সাথে তাঁরা অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অন্যায়ভাবে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যেকোনো বাধা ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল পুনর্নির্মাণের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পূর্বস্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে সকল পক্ষকে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এই তিন দেশ।























