Dhaka ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

গাজীপুরের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক ও সুতা প্রস্তুতকারক শিল্পগোষ্ঠী কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার পর মঙ্গলবার সকালে কারখানায় এসে প্রধান ফটকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কোনাবাড়ী এলাকার কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের প্রধান ফটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাঁটাই নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে ছাঁটাই তালিকায় নিজেদের নাম ঝুলছে কি না তা দেখতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভিড় জমান। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কাজ করা সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম সহ বহু কর্মরত শ্রমিক চাকরি হারিয়ে কান্না ও কান্নাভেজা কণ্ঠে অনাহারে দিন কাটানোর চরম উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করেন। সার্বিক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ছাঁটাই সংক্রান্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলমান চরম ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় তিতাস কর্তৃক সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে নানামুখী পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

নোটিশে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে কারখানায় পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল রাখা হয়েছে, তারা পূর্বের নিয়মেই লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে ছাঁটাইকৃত অতিরিক্ত ৭৩৯ জন শ্রমিক-কর্মচারীর আইনানুগ যাবতীয় বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গত ৬ জুন থেকে বিভিন্ন দফায় লে-অফে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের শ্রম আইন মেনে দ্রুত প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এদিকে, কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া পাঁচ দফায় লে-অফের পর এক নোটিশে একসঙ্গে ৭৩৯ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় শ্রমিক সংগঠন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান অনতিবিলম্বে ছাঁটাইকৃত সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন, আইনানুগ পাওনা ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দ্রুত পরিশোধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায় মার্কিন জনগণ: বারাক ওবামা

কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক ও সুতা প্রস্তুতকারক শিল্পগোষ্ঠী কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার পর মঙ্গলবার সকালে কারখানায় এসে প্রধান ফটকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কোনাবাড়ী এলাকার কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের প্রধান ফটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাঁটাই নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে ছাঁটাই তালিকায় নিজেদের নাম ঝুলছে কি না তা দেখতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভিড় জমান। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কাজ করা সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম সহ বহু কর্মরত শ্রমিক চাকরি হারিয়ে কান্না ও কান্নাভেজা কণ্ঠে অনাহারে দিন কাটানোর চরম উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করেন। সার্বিক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ছাঁটাই সংক্রান্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলমান চরম ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় তিতাস কর্তৃক সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে নানামুখী পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

নোটিশে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে কারখানায় পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল রাখা হয়েছে, তারা পূর্বের নিয়মেই লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে ছাঁটাইকৃত অতিরিক্ত ৭৩৯ জন শ্রমিক-কর্মচারীর আইনানুগ যাবতীয় বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গত ৬ জুন থেকে বিভিন্ন দফায় লে-অফে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের শ্রম আইন মেনে দ্রুত প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এদিকে, কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া পাঁচ দফায় লে-অফের পর এক নোটিশে একসঙ্গে ৭৩৯ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় শ্রমিক সংগঠন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান অনতিবিলম্বে ছাঁটাইকৃত সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন, আইনানুগ পাওনা ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দ্রুত পরিশোধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।