চট্টগ্রাম বন্দরনগরীকে একটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এবং বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও জনবান্ধব করতে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সামগ্রিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে বৃহৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এই লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক ল্যান্ডফিল কমপেক্টর ডাম্প ট্রাক, যান্ত্রিক রোড ক্লিনিং কার এবং শহরের নালা-নর্দমা পরিষ্কারের উপযোগী বিশেষায়িত গাড়িসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগরের আবর্জনা সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণ কার্যক্রমে দ্রুত গতি আনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এক দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করছে চসিক।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সাথে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব আশাব্যঞ্জক কথা জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সম্মেলনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে উন্নীত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এই কারণে সনাতন ও পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রাংশের ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। আধুনিক বর্জ্য পরিবহন সরঞ্জাম ও উন্নত যন্ত্রপাতি সংযোজন করার মাধ্যমে আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণ কাজকে দ্রুত ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য অপসারণে যেসব মৌলিক সীমাবদ্ধতা ছিল, পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বাড়িয়ে তা দূর করা হচ্ছে। আধুনিক ল্যান্ডফিল কমপেক্টর ডাম্প ট্রাকের সুবাদে দ্রুত আবর্জনা পরিবহন, রোড ক্লিনিং গাড়ির ব্যবহারে মূল সড়কসমূহ দ্রুত ধুলামুক্ত রাখা এবং বিশেষ প্রযুক্তিযুক্ত গাড়ির সহায়তায় ড্রেন ও নালার বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এসব প্রযুক্তি পুরোদমে চালু হলে নগরের রাস্তাঘাট ও জনপরিসর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে নাগরিক সেবার মান উত্তরোত্তর বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, চসিকের সকল সেবামূলক কার্যক্রমকে জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছাতে পুরো সংস্থাকে ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘আমার চট্টগ্রাম’ নামের একটি সর্বাধুনিক স্মার্ট অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই ধরণের প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ফলে সাধারণ নাগরিকদের সাথে সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র আরও যোগ করেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক রূপ দেওয়া কেবল সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এই ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অত্যন্ত আবশ্যক। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার মানসিকতা পরিহার করে নগরবাসীকে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। একই সাথে বর্জ্য নিষ্কাশনে নিয়োজিত কর্মী ও কর্মকর্তাদেরও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুল ইসলামসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা।


























