নয়াদিল্লিতে আশ্রয়প্রার্থী ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বা অনলাইন বৈঠকে মিলিত হয়ে গভীর অসন্তোষ ও ভর্ৎসনা প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় রাজধানীতে সশরীরে একত্রিত হওয়ার পূর্বপরিকল্পনা ও তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তিনি এই ক্ষোভ জানান। পাশাপাশি, সংগঠনের ভেতরের যেকোনো গোপন বিষয় বা আলোচনা যেন কোনোভাবেই বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে সাবধান করেন তিনি।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আয়োজিত ওই ভার্চুয়াল আলোচনায় স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে নয়াদিল্লি থেকে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। দলটির একজন দায়িত্বশীল জ্যেষ্ঠ নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সভার শুরুতে সশরীরে সাক্ষাতের সূচি ও পরিকল্পনা জনসমক্ষে চলে আসায় দলপ্রধান নিজের বিরক্তি ও ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। হোয়াটসঅ্যাপে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই নেতা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সংগঠনের গোপনীয়তা রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ কোনো তথ্য যেন চুইয়ে বাইরে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আগেই ভারতের রাজধানীতে উপস্থিত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার নির্দিষ্ট আবাসস্থলেই তাদের সামনাসামনি বসার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বদলে সভাটি ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফিরে আসার জোরালো ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণআন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বর মাসে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। শুক্রবারের এই অনলাইন সভায় সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বিষয়ের বাইরেও দলটির রাজনৈতিক কৌশল, আইনি লড়াই এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
এর পাশাপাশি, আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসার বিষয়টি। বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো পদ না থাকলেও তাকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক উইং বা সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নেতাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। উক্ত নেতার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাত নেতার কয়েকজনও এই অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক মহলে বেশ সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে তার রাজনৈতিক তৎপরতা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। অন্যদিকে, তার অংশ নেওয়া পূর্বের একটি অনুষ্ঠানের বিষয়ে নয়াদিল্লি পরিষ্কার করে জানিয়েছিল যে, সেটির আয়োজক ছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ওই ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক বা ভূমিকা ছিল না।


























