নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় সাঁড়াশি কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১৪৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ১৪৪ জনকে কঠোর মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা, কিশোরদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধ করা, সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই জেলার প্রতিটি থানায় এই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত একটানা ২৪ ঘণ্টা জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন থানায় আটককৃতদের এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে—বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১১ জন, সেনবাগ থানায় চারজন, চরজব্বর থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় চারজন, চাটখিল থানায় চারজন, হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ৫১ জন এবং কবিরহাট থানায় ১২ জন। এর মধ্যে হাতিয়া থানায় আটককৃত ৫১ জনের মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় সরাসরি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ৫০ জনসহ মোট ১৪৪ জনকে অভিভাবকদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও জোরালোভাবে বলেন যে, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা চিরতরে নির্মূল করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ মানসিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে জেলা পুলিশ।


























