ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিরোধীদের এক বিশাল মিছিল ও বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে লুটিয়েন্সের দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রোববার থেকেই যন্তর মন্তর এলাকা এবং বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের শক্ত ব্যারিকেড বহাল রাখা হয়েছে। মধ্য দিল্লির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো নতুন দিল্লি জেলাকে ২০টি আলাদা জোনে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রতিটির সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা যাতে সংরক্ষিত ও সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নির্ধারিত ৩৭টি পয়েন্টে বিশেষ ব্যারিকেড ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশনায় বলেছিলেন যে, রাজধানীতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ব্যতিরেকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশ সত্ত্বেও দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) সোমবার ভোরে এক জরুরি ঘোষণায় জানিয়েছে যে, সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতা ও বিরোধী দলের পূর্বঘোষিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ভারতীয় রাজধানীতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।























