স্মার্টফোনের বাজারে নিত্যনতুন মডেলের উচ্চমূল্যের কারণে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে ‘রিফারবিশড’ ও ‘প্রি-ওনড’ (ব্যবহৃত) ডিভাইসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে দুটি প্রযুক্তিগত শব্দকে এক মনে করা হলেও এদের কারিগরি ও গুণগত প্রক্রিয়ায় মৌলিক ফারাক রয়েছে। ‘প্রি-ওনড’ বা ব্যবহৃত ফোন বলতে কোনো পরিবর্তন ছাড়া পূর্বের মালিক যেভাবে ব্যবহার করেছেন, ঠিক সেই অবস্থাতেই বিক্রি করা ডিভাইসকে বোঝায়। অন্যদিকে, ‘রিফারবিশড’ ফোন বলতে এমন এক পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়াকে বোঝায়—যেখানে ফোনটি কারিগরি পরীক্ষা, পরিষ্কার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটারি বা নষ্ট যন্ত্রাংশ বদলে পুনরায় বিক্রির উপযোগী করা হয়।
সব রিফারবিশড ফোনের গুণগত মান এক নয়; এটি কে বা কোন প্রতিষ্ঠান সংস্কার করেছে তার ওপর নির্ভর করে। অ্যাপল কিংবা স্যামসাংয়ের মতো মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ‘সার্টিফায়েড রিফারবিশড’ ফোনে নতুন ব্যাটারি, বডি কাভার ও অফিসিয়াল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন ফোনের মতোই এক বছরের পূর্ণ ওয়ারেন্টি মেলে। বিপরীতে, ইবে বা ব্যাক মার্কেটের মতো তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত সংস্কারকদের মাধ্যমে বিক্রি করা ফোনে অন্তত ৮০ শতাংশ ব্যাটারি স্বাস্থ্য, তথ্যের সুরক্ষায় ফ্যাক্টরি রিসেট এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের বিক্রেতা ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা হয়। তবে অস্পষ্ট উৎস বা সাধারণ ‘সেলার রিফারবিশড’ ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই মান রক্ষা না-ও হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্পষ্ট তথ্যের কোনো বিক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে রিফারবিশড ফোন কেনার চেয়ে পরিচিত উৎস থেকে ভালো অবস্থায় থাকা ‘প্রি-ওনড’ বা ব্যবহৃত ফোন কেনা তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হতে পারে। তাই যেকোনো পুরোনো ফোন কেনার আগে কেবল নাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, আইএমইআই (IMEI) নম্বর, আইক্লাউড বা গুগল অ্যাকাউন্ট লক মুক্ত থাকা, মোবাইল নেটওয়ার্কের সামঞ্জস্যতা এবং রিটার্ন পলিসি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক।


























