নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি কর্তৃক চলতি ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সরকারের নেওয়া এই অভূতপূর্ব শাস্তিমূলক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক টানাপোড়েন তৈরির গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে দেওয়া হবে না।” তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সঙ্গে সকল ধরনের মার্কিন আর্থিক লেনদেন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক এ আদালতের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনার সার্বিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলা। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ সে দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং পূর্বে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিচারিক সংস্থা আইসিসির বর্তমান সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সকল দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘনিষ্ঠ মিত্র রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক প্রভাব থেকে সদস্যদেশগুলো ও আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কাজ সচল রাখতে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে আইসিসি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন ব্ল্যাকআউট মোকাবিলা করে আদালত সচল রাখতে নিজস্ব বিকল্প সফটওয়্যার, স্বাধীন ব্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জরুরি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।
এদিকে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সুদীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভেনথাম ‘নাভি’ পিলাই। পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানায়, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বজনীন বিচার ব্যবস্থা যখন নানামুখী রাজনৈতিক আক্রমণের মুখোমুখি, ঠিক সেই মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিত মানুষের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার সুমহান গুরুত্ব বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতেই নাভি পিলাইকে এই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।























