ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক মহলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারতের এই কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া দেশটি বর্তমানে ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদারে পরিণত হয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ, আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভূকৌশলগত স্বার্থ এই ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এর বড় একটি উদাহরণ দেখা যায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ভারত সফর করেন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অথচ এমন একজন বিতর্কিত নেতাকে ভারতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পাশাপাশি তিনি মুম্বাইয়ের পুঁজিবাজার এবং গুজরাটে বিনিয়োগকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ভারতের এই নীতি প্রমাণ করে যে ঐতিহ্যগত মিত্ররা যখন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা থেকে পিছু হটছে, তখন নয়াদিল্লি ইসরাইলের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার পথ বেছে নিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরাইল সফর দুই দেশের সম্পর্কের সেই দৃঢ়তাই প্রকাশ করে, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।























