অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেও ব্যাটিংয়ের পুরোনো ও পরিচিত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুট ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের তোপে পড়ে ১৬৬ রানেই গুটিয়ে গেছে নিগার সুলতানার দল। জবাবে ফিবি লিচফিল্ডের বিধ্বংসী ফিফটি ও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অজি নারীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ম্যাচের প্রথম ওভারেই চরম বিপর্যয়ে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ান অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুট। ইনিংসের একেবারে প্রথম বলেই ওপেনার ফারজানা হককে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন এই ডানহাতি পেসার। পরপর দুই উইকেট শিকারের মাধ্যমে নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৫০ উইকেটের বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেন শুট। ক্যাথরিন ফিটজপ্যাট্রিক ও এলিস পেরির পর অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটে তৃতীয় বোলার হিসেবে এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন তিনি। শুট ১০ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
পরপর দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও শারমিন আক্তার ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। শারমিন আক্তার ২৪ ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৯ রান করে বিদায় নেন। মধ্যভাগে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর ছিলেন রিতু মনি। তিনি ৬৩ বলে ৪৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে ১৫০ রানের কোটা পার করতে সাহায্য করেন। শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ৩২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ইনিংসের শেষ ভাগে ধস নামান অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। তিনি ৩০ রান খরচায় ৪টি উইকেট নিয়ে সফরকারীদের পুরো ইনিংস গুটিয়ে দেন। ফলে ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
১৬৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জয় পেতে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয়নি। যদিও দলীয় ১৯ রানে ১৮ বলে ১৯ রান করা জর্জিয়া ভলকে আউট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুভসূচনা করেন বাংলাদেশের ১৭ বছর বয়সী অভিষিক্ত তরুণ পেসার হাবিবুল ইসলাম।
তবে প্রথম উইকেট পতনের পর উইকেটে এসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন ফিবি লিচফিল্ড। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ৩৫ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে অভিজ্ঞ এলিস পেরির সঙ্গে গড়ে তোলেন ৮৯ রানের ম্যাচজয়ী জুটি। শেষ পর্যন্ত রাবেয়া খানের বলে রিতু মনির হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে লিচফিল্ড করেন ৫৭ বলে ৭৭ রান। এর কিছুক্ষণ পর বেথ মুনিকে (১৩) ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান অভিষিক্ত হাবিবুল ইসলাম।
তবে তা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এক প্রান্তে এলিস পেরি ২৬ রানে এবং অন্য প্রান্তে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ২৫ রানে অপরাজিত থেকে ২৫.৪ ওভারেই (১৪৬ বল বাকি থাকতে) অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

























