সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী দীর্ঘ দশক ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও ক্ষেত্রে অবস্থান করে আসছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য স্পষ্ট করেন।
আইএসপিআর প্রধান তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোট রাতারাতি বা হঠাৎ করে তৈরি হয়ে যায়নি। মূলত পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক—এই তিনটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার সুদীর্ঘকালের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক এবং জনগণের পারস্পরিক সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তির ওপর পরই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি এসেছে।
এর আগে রিয়াদে অনুষ্ঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠকে তিনটি দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছান। একই সঙ্গে সম্মত হওয়া নির্দিষ্ট সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা খুব দ্রুত সৌদি আরবের মাটিতে ‘দ্রুত মোতায়েন’ নিশ্চিত করার বিষয়েও তাঁরা একমত হন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সরকারি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, উভয় দেশের অনুমোদিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা এবং নিজ নিজ দেশের স্ব স্ব আইন ও এখতিয়ার অনুযায়ী সামরিক প্রস্তুতি, কৌশলগত সমন্বয় এবং সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সেনা মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে অত্যন্ত কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যদি কোনো একটি দেশের ওপর কোনো সশস্ত্র আক্রমণ বা আগ্রাসন চালানো হয়, তবে সেই আক্রমণকে বাকি সব সদস্য দেশের ওপরই সরাসরি আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা স্থাপত্যে এক নতুন ও শক্তিশালী সমীকরণ তৈরি করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।























