ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত সংকট রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে, যার ফলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের জন্য। মার্কিন কঠোর অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানিতে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখে থাকা তেহরান এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের মতো মধ্য এশীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই রাশিয়া থেকে আমদানি করত। তবে বর্তমানে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির অংশ হিসেবে তাজিকিস্তান ইতিমধ্যেই ইরান থেকে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করেছে এবং কিরগিজস্তানে একটি যৌথ শোধনাগার নির্মাণের জন্য ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মধ্য এশীয় অঞ্চলে ইরানের এই তেল ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক ও লজিস্টিক জটিলতা; ইরান থেকে এই তেল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছাতে হলে মাঝপথে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর ওপর দিয়ে জটিল রেলপথে যাতায়াত করতে হয়, যা যথেষ্ট দুরূহ ও ব্যয়বহুল।
তাছাড়া, অদূর ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে কিংবা রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে পুনরায় সচল হলে বিশেষ শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে তুলনামূলক কম মূল্যে রাশিয়ার তেলই আবার আঞ্চলিক বাজারে ফিরে আসবে, যেখানে ইরান টিকতে পারবে না। পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের জ্বালানি লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র ঝুঁকি ও খড়্গ তো লেগেই রয়েছে।























