যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের সংক্রমণ রোধে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ১৫ জুলাইয়ের পর আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে টিকাদান এবং রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নার্স ও ফার্মাসিস্টদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে হামের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে ১ হাজার ৪টি হাম শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০ জনের অধিক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং মারা গেছেন পাঁচজন। ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিসহ মোট ৩৯টি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাব গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের সবচেয়ে বড় ঘটনা। পেনসিলভানিয়ার পাশাপাশি টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি হাম শনাক্ত হয়েছে, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশের টিকাদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার সেই নির্ধারিত মাত্রার নিচে নেমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রিত থাকা এই রোগটি পুনরায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আগামী নভেম্বরে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএএইচও) বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র হাম নির্মূলের মর্যাদা ধরে রাখতে পারছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা করবে। বর্তমান এই গুরুতর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জনস্বাস্থ্য অর্জন নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।























