আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে দেশের নির্বাচিত সেরা ও গুণী শিক্ষকদের এক লাখ টাকা নগদ অর্থ, একটি বিশেষ ক্রেস্ট এবং সম্মাননা সনদ প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক মনোনয়নের জন্য দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকে মোট ১৪০ জন শিক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকা আহ্বান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা জেলা থেকে সাতজন এবং দেশের বাকি অন্যান্য প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে মোট ৭০ জন গুণী কলেজ শিক্ষক এবং ৭০ জন গুণী স্কুল শিক্ষককে প্রাথমিক তালিকার জন্য বাছাই করা হবে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র ও নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাউশিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মাউশির প্রকাশিত এক প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বাংলাদেশেও বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে এবার উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা খাতের সকল পর্যায়কে যুক্ত করে দিবসটি কেন্দ্রীয়ভাবে উদযাপনের বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রমের মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সব মিলিয়ে চূড়ান্তভাবে ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পর্যায় থেকেই যোগ্যদের বাছাই করা হবে। চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রতিজন গুণী শিক্ষক এক লাখ টাকার চেক, স্মারক ক্রেস্ট এবং জাতীয় সম্মাননা সনদ লাভ করবেন।
প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া যথাযথ রাখতে উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায় ছাড়াও পৃথক ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকরা নির্দিষ্ট ফরমে নিজেদের যাবতীয় তথ্য প্রদান করবেন, যা সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করা হবে। পূরণ করা তথ্য ফর্মের হার্ডকপি সরাসরি সাধারণ প্রশাসন শাখায় জমা দেওয়ার পাশাপাশি সফটকপি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেবল একাডেমিক যোগ্যতা ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাই নয়; বরং শিক্ষকের নৈতিক সততা, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান, সময়ানুবর্তিতা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, গবেষণাপত্র প্রকাশ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং সমাজ সংস্কারে বিশেষ অবদানের বিষয়টিও মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক সুপারিশ পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি পুরো চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করবে। নির্ধারিত সকল মানদণ্ড যাচাই শেষে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের হাতে আগামী ৫ অক্টোবরের কেন্দ্রীয় বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।


























