ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের যবনিকা পতন ঘটতে চলেছে। নীল-সাদা জার্সিতে জীবনের শেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে আজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচে বেনিনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, আর এটিই হতে যাচ্ছে মহাতারকার বিদায়ী ম্যাচ। ম্যাচটির প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মেসির প্রবেশের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে মাঠ মাতিয়ে যাওয়া ৩৯ বছর বয়সি এই আইকন বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে শেষবারের মতো আলবিসেলেস্তে জার্সি গায়ে চাপাবেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিদায় মুহূর্ত সরাসরি উপভোগ করতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন প্রায় পঁচাশি হাজার দর্শক। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের সেই স্মরণীয় যাত্রার বহু সতীর্থের পাশাপাশি জাতীয় দলে সদ্য জায়গা করে নেওয়া নতুন প্রজন্মের উদীয়মান ফুটবলাররাও এই বিশেষ লগ্নের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন।
বর্ণময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জনের ঝুলির তুলনা মেলা ভার। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি এক সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জিতেছেন একটি ফিফা বিশ্বকাপ, দুটি মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা শিরোপা। দেশের জার্সিতে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ডের মালিক এই মহাতারকা ২০৭টি ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন ১২৫ বার এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৬৮টি—উভয় পরিসংখ্যানই দেশের ফুটবল ইতিহাসে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এর আগে, প্রায় আড়াই মাস আগে নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর হতাশায় কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে গত আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে দেশের জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছেন এবং এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার উপযুক্ত সময়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি বহাল থাকলেও, সম্প্রতি পিতৃহারা হওয়ার গভীর শোক এবং ব্যক্তিগত নানা সমীকরণের কারণে ফুটবল দুনিয়া থেকে প্রত্যাশার আগেই পাকাপাকিভাবে সরে দাঁড়ানোর কথা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। সবমিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের এক অবিশ্বাস্য ও রূপকথার মতো দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা ক্রীড়াজগৎ।

























