বিশ্বকাপ পরবর্তী পর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনো। আসন্ন আন্তর্জাতিক চার প্রীতি ম্যাচের লড়াইকে সামনে রেখে ঘোষিত তাঁর ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে মোট ১২ জন নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। এই নবীনদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন ১৬ বছর বয়সি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার ক্যাভিন সলিভান।
বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগী ও ক্রীড়ামোদী জনগোষ্ঠীর কাছে সলিভান পরিবারটি ইতিমধ্যেই বেশ পরিচিত। উত্তর আমেরিকার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জার্সিতে নিয়মিত খেলছেন ক্যাভিন এবং তাঁর ২২ বছর বয়সি বড় ভাই কুইন সলিভান।
ক্যাভিনের অপর দুই ভাই—রোনান ও ডেক্লান সলিভান ভবিষ্যতে লাল-সবুজ পতাকাধারী বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, সাফা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের হয়ে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে নজর কেড়েছিলেন রোনান। এই চার ভাইয়ের নানি হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি নারী মুক্তিযোদ্ধা সুলতানা আলম, যিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।
বর্তমানে ক্যাভিন সলিভানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে অন্যতম সেরা ও সম্ভাবনাময় প্রতিভাবান হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী হোমগ্রোন বা স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেশাদার মেজর লিগ সকারের মাঠে পদার্পণ করে এক অনন্য নজির গড়েছিলেন এই তরুণ; আমেরিকা কিংবা কানাডার যেকোনো শীর্ষ পেশাদার ক্রীড়া লিগে অভিষিক্ত সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার বিশ্ব রেকর্ডটি তাঁর দখলেই রয়েছে। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার চুক্তিও ইতিমধ্যে হয়ে আছে। গত বছর ফিলাডেলফিয়ার ‘সাপোর্টার্স শিল্ড’ জয়ের পেছনে বড় অবদান রেখেছিলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।
চলতি মৌসুমেও এমএলএস-এ ক্লাবের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে চলেছেন ক্যাভিন। নিয়মিত মৌসুমের ২৩টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি নিজে ৬টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১১টি গোল।
ঘরোয়া ক্লাবের এই সাফল্যের ওপর ভর করে এবার জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের সুযোগ এসেছে তাঁর সামনে। যদিও তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কুইন সলিভান গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে বর্তমান স্কোয়াডে তিনি স্থান পাননি।
পচেত্তিনোর ঘোষিত নতুন এই স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াদের মধ্যে ১৩ জনেরই এখনো জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। এই ১৩ জন নতুন মুখের মধ্যে কেবল গোলরক্ষক দিয়েগো কোচেন পূর্বে সিনিয়র দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন।
ক্যাভিনসহ মোট ছয়জন ফুটবলার রয়েছেন যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার চেয়ে নিচে। ফলে পুরো মার্কিন দলটির গড় বয়স গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২২ বছর ৯ মাসে—যা তাদের বিগত বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গড় বয়সের তুলনায় চার বছরেরও বেশি কম।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে যুক্তরাষ্ট্র দল যথাক্রমে পেরু, চিলি, মেক্সিকো এবং কানাডার বিরুদ্ধে চারটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত দল প্রকাশ করে কোচ পচেত্তিনো জানান, তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় দলে সুযোগ করে দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
পচেত্তিনো বলেন, এটি সবার জন্য এক নতুন শুরুর সূচনা। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের পাশাপাশি দারুণ সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাদের যুক্ত করতে পেরে তাঁরা বেশ উদ্বেলিত। তিনি আরও যোগ করেন, দলের ফুটবল সংস্কৃতি, অনুশীলনের ধরন ও কৌশল অনুধাবন করা এই তরুণদের জন্য জরুরি। সর্বোপরি, সমর্থকরা যেমনটা প্রত্যাশা করে, ঠিক সেভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো দৃঢ় মানসিকতা ও নিবেদন তাদের মাঠে প্রমাণ করতে হবে।

























