ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইউরোপের একাধিক দেশের সামরিক ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শীর্ষক এই অভিযানে ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো সরাসরি বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান চালনা, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ, গোলাবারুদ পরিবহন এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিবিসি বাংলার এক বিশেষ অনুসন্ধানী তথ্যসূত্র থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক গ্রেফতারের ঘটনার পর ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলোর এই সামরিক ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে বি-১বি ল্যান্সার এবং বি-৫২ বোমারু বিমান সরাসরি উড়ে গিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামোয় শত শত হামলা চালিয়েছে। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ওয়াশিংটনের অনুরোধে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইনি পরিমণ্ডলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি সতর্ক করেছিল যে, হামলার কাজে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি হবে তাদের জন্য বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু।
তবে ইরানে হামলার সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান একরকম ছিল না। পর্তুগালের লাজেস, জার্মানির রামস্টাইন এবং গ্রিসের সুদা বিমানঘাঁটি সরাসরি হামলায় যুক্ত না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান পরিবহন, মেরামত ও লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে; স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি তাদের ভূখণ্ড ও ঘাঁটি সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বিশেষ করে স্পেনের কঠোর সিদ্ধান্তের পর ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি দেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজ’-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মোট মার্কিন সামরিক বহরের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই স্থানান্তর করা হয়েছিল ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো থেকে। যুদ্ধের সময় ব্রিটেন, জার্মানি ও পর্তুগাল থেকে শুরু করে পূর্ব ইউরোপের রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলোর আকাশসীমা ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। অপরদিকে ইনজিরলিক ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তুরস্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো বারবার স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ভূমি থেকে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক হামলা পরিচালিত হতে দেওয়া হয়নি।























