২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে কানাডার স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এর ফলে চলতি বছরের শেষে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার অথবা টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার ‘কালশি’তে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কার্নি সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে এসেছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ীরা তার জয়ের সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ বলে ধারণা করেছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য সেই হার কিছুটা কমে আসে। তবে নোবেল কমিটির গোপন সংক্ষিপ্ত তালিকায় কার্নির নাম রয়েছে এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও মেলেনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তীব্রভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, কার্নির এই দৃঢ় অবস্থানই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এদিকে, টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে স্থান দিয়েছে। পূর্বাভাস বাজারগুলোতেও তিনি ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচনের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এই পুরস্কার আগামী ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।
জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্ক কার্নি বলেছিলেন যে, পুরোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য বৃহৎ শক্তির ওপর নির্ভর না করে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এই মন্তব্যের পর কানাডা ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও কার্নি উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে কার্নির অবস্থানই তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।























