ঝিনাইদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলার জট দিন দিন বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫১৪টি। এর বিপরীতে গত এক মাসে মোট ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মামলার বিশাল স্তূপের তুলনায় নগণ্য।
আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিচারাধীন ২০ হাজার ৫১৪টি মামলার মধ্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৯৩টি, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক হাজার ৩৭১টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৫১৪টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে দুই হাজার ৯০টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (মহেশপুর) এক হাজার ৪১৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৭২৬টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে এক হাজার ৫৮৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে এক হাজার ৪৪৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে এক হাজার ৪৩২টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া জেলার ৬টি উপজেলা-ভিত্তিক আমলী আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সাত হাজার ৩৩৬টি। পাশাপাশি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেও আরো প্রায় দুই হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলা নিষ্পত্তির চিত্র হতাশাজনক। গত এক মাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ২৯৮টি এবং আমলী আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ৬৯৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসে সর্বমোট ৯৯২টি মামলা বিচারে শেষ হয়েছে, যা বিচারাধীন মামলার সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।
একই সময়কালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৭৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪০ জন আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারক স্বল্পতা এবং নিয়মিত মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মামলার এমন জট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারপ্রার্থী নাজমুল আশরাফ রনি জানান, তিনি একটি মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন, অথচ মামলাটির নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যে গতিতে মামলা এগোচ্ছে, তাতে তার মামলা নিষ্পত্তি হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্য এক বিচারপ্রার্থী মাহমুদা বেগম জানান, প্রতিবার শুনানির তারিখ পড়লেও মামলার শুনানি হয় না। প্রতি তারিখে আদালতে আসতে হয়, যা মোটা অংকের খরচের কারণ। কিন্তু মামলার শেষ কবে হবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।






















