চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী ও চাঁদাবাজ চক্রের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়েছে পুলিশ। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘটিত এই তীব্র গুলিবিনিময়ের ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর কুখ্যাত অপরাধী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন চক্রটিকে গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কদলপুরের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতর থেকে জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেনসহ অন্য সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
এই গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযانی একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামক এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে প্রধান আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত ও তার দেখানো স্থান তল্লাশি করে একটি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক), একটি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক), ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা এবং গোলাবারুদ রাখার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতেও একই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























