মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কারাবন্দি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে কারাবিধি অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিকালে তারেক সাঈদের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেল অভিযোগ করেন যে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে কারারক্ষীরা লাঠিসোটাসহ তারেক সাঈদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করা হলেও তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় না থাকায় আইনজীবী নিজেই তদন্তের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন। তবে তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে স্থানান্তরের পর তাকে কোনো ধরনের চিকিৎসাসনদ ছাড়াই কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারেক সাঈদ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং বুধবার আদালতে তার উপস্থিতিতে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কোনো অভিযোগ করেননি। তবে মানবতাবাদী দিক বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল কারা কর্তৃপক্ষকে তাকে অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় গত ১০ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।


























