ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত ডেমোগ্রাফি কমিশন থেকে গাড়ি নিবন্ধন ও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত ধর্মভিত্তিক তথ্য চেয়ে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। ওয়াইসি বলেন, আমরা যখন মোদী সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ অমিত শাহের ‘ডেমোগ্রাফি কমিশন’ এখন রাজ্যগুলোর কাছে জানতে চাইছে কোন ধর্মের মানুষ কতগুলো গাড়ি কিনেছে, কার কত জমি আছে—ইত্যাদি।
তার দাবি, তথ্যের ভিত্তিতে উন্নত নীতি প্রণয়ন করা এই কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত করা হতে পারে, যাতে মুসলিমদের টার্গেট করা যায় এবং তাদের অবশিষ্ট অধিকারও কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি (এইচএলসিডিসি) গত ১৫ বছরের ধর্মভিত্তিক জন্মনিবন্ধন, গাড়ি নিবন্ধন, স্কুলে ভর্তি ও সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি জেলা অনুযায়ী ধর্মীয় স্থাপনার সংখ্যা এবং আধার, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ড নিবন্ধনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তফসিলি উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তর নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন এবং কার্যকর আটককেন্দ্রগুলোর তথ্যও কমিটি চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে সৃষ্ট জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সুপারিশের জন্য এইচএলসিডিসি গঠন করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটেছে এমন এলাকায় এই কমিটি যাবে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) শেষ হওয়া এলাকাগুলোতে গিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।























