গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুসহ ৩৭ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কের নিষেধাজ্ঞা
৯ নভেম্বর ২০২৫: গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের আড়ালে ‘গণহত্যা’ চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ তাঁর সরকারের ৩৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তুরস্ক। শুক্রবার ইস্তাম্বুলের শীর্ষ সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই খবর জানিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলো।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যারা আছেন:
নেতানিয়াহু ছাড়াও এই তালিকায় ইসরায়েল সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম:
- ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
- জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়া আল জামির।
পরোয়ানায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জোট ‘ফ্লোটিলা’-এর ত্রাণের বহর আটকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা ও তুরস্কের অবস্থান:
পরোয়ানা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
- ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া: দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সা’র এক বিবৃতিতে তুরস্কের এই পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ‘রাজনৈতিক প্রচারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান তাঁর দেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
- আন্তর্জাতিক বিচার: এমন এক সময়ে এই পরোয়ানা জারি করা হলো, যখন গাজায় চলছে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং গত বছর গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে যে মামলা দায়ের করে, তাতে তুরস্ক পরবর্তীতে বাদিপক্ষ হিসেবে যোগ দেয়।
হামাসের স্বাগত:
গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাস তুরস্কের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। হামাসের হাইকমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়,
“গাজা ইস্যুতে তুরস্কের জনগণ ও নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো।”
















