কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল বর্তমানে অপহরণকারী ও সশস্ত্র ডাকাত দলের একটি প্রধান অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ, পানের বরজ কিংবা মাছ চাষ করতে যাওয়া সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও পরিবহনচালকরা সবসময় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অতীতে বহু মানুষ সশস্ত্র চক্রের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের নজির রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকার এই চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী বাহারছড়া সংলগ্ন পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব ধারাবাহিক অভিযানে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় গড়ে ওঠা আনুমানিক ৩০টির মতো সশস্ত্র ডাকাত ও মানবপাচারকারীর গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সফল অভিযানে ইতোমধ্যে দু’জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক, সিএনজি চালক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাহাড়ি এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারীও গোপনে জড়িত রয়েছে। সুযোগ পেলেই ডাকাতদল রাস্তাঘাট বা চাষাবাদের জমি থেকে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ না পেলে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অপহরণ বাণিজ্য ও ত্রাসের রাজত্ব চিরতরে নির্মূল করতে আরও কঠোর ও স্থায়ী টহল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় সংঘটিত অপহরণ ও মানবপাচার কঠোরহস্তে রোধ করতে থানা পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে ৩০টি আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


























