ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো জ্বালানি অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের তেল রপ্তানি যখন মারাত্মক হুমকির মুখে, ঠিক তখনই এই মন্তব্য করলেন শীর্ষ এই ইরানি কর্মকর্তা। এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও গালিবাফ সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোও ইরানের কঠোর প্রতিঘাতের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হলেও ইরানের রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শর্ত ও প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলে তবেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানের নতুন প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।























