কলেজছাত্র তুহিন হত্যা: গ্রেপ্তার ১, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
কুমিল্লা, ০৩ নভেম্বর, ২০২৫:
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এরশাদ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র তুহিন হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মামলার একজন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
- গ্রেপ্তারকৃত: শফিউর আলম মানিক (৪২), বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
- সময় ও স্থান: রবিবার (২ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার শিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- আদালতে জবানবন্দি: সোমবার (৩ নভেম্বর) কুমিল্লার আমলী আদালত-২ এর ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মোলির আদালতে শফিউর আলম মানিককে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
- স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু: জানা গেছে, জবানবন্দিতে তিনি তুহিনকে অপহরণ ও নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিবি ওসি জানান, জবানবন্দির তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার পটভূমি
- নিহত: কলেজছাত্র তুহিন।
- ঘটনা: গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে কামাল মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে তুহিনকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
- অভিযুক্ত: স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইতালি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম বাবু এবং তার সহযোগীরা।
- মৃত্যু: অপহরণের পর তুহিনকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৭ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৭ অক্টোবর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
- মামলা: নিহত তুহিনের মা ফেরদৌসী আক্তার বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম বাবু, তার ছেলে নাফিজ উদ্দিন, জহির, আবদুল আলিমসহ ৭-৮ জনের নাম উল্লেখ করে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তুহিনের মৃত্যুর পর দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুড়িচংয়ের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।
















