জাপানের প্র প্রাণকেন্দ্র টোকিও এমনিতেই একটি ব্যস্ততম শহর। সেই নাগরিক ব্যস্ততার রূপটি যেন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে জনপ্রিয় ‘টোকিও ডোম সিটি’ এলাকায়। আর এই চত্বরের কেন্দ্রবিন্দুতেই গড়ে তোলা হয়েছে সুপরিচিত বেসবল জাদুঘর ও ‘হল অব ফেম’।
বাংলাদেশে বেসবল বা সফটবল খেলা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা একেবারেই নগণ্য, আবার এর চর্চাও অতি সীমিত। তবে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে ফুটবলের রাজত্ব থাকলেও জাপানে ফুটবল ও বেসবল সমান তালে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব জাতীয় খেলা সুমো কুস্তির ঐতিহ্য তো বহাল রয়েছেই।
চলমান এশিয়ান গেমসের খবর সংগ্রহের সূত্রে পেশাগত মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদর্শন করে এই জাদুঘরটি ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে। প্রদর্শনীর ভেতরে প্রবেশ করতেই গ্যালারির দুপাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বহু গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি চোখে পড়ে। ছবিগুলোর নিচে জাপানি ভাষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ইংরেজিতেও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া রয়েছে।
জাপানিদের মধ্যে এই খেলার প্রচলন ও প্রভাব এতটাই গভীর যে, প্রতি বছর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নতুন নতুন নামকে ‘হল অব ফেমে’ স্থায়ী স্থান দেওয়া হয়। ফ্রাঞ্চাইজ বা জাতীয় পর্যায়ে যারা দেশে বেসবলের সূচনা করেছিলেন এবং স্থানীয়দের খেলার মৌলিক দক্ষতা ও নিয়মাবলী শিখিয়েছিলেন, তাদের স্মৃতি রক্ষায় পৃথক এক গ্যালারি রাখা হয়েছে। জাপানের জাতীয় দলের অর্জিত আন্তর্জাতিক আসরের ট্রফিগুলো এবং ঐতিহ্যবাহী জার্সিগুলো সেখানে সযতনে সংরক্ষিত রয়েছে।
খুদে দর্শক ও উদীয়মান কিশোর-কিশোরীদের এই খেলায় উদ্বুদ্ধ করতে মিউজিয়ামে লিজেন্ড তারকাদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও বাণী যুক্ত করা হয়েছে। অপর একটি বিশেষ কক্ষে সংরক্ষিত রয়েছে বেসবলের ঐতিহাসিক সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা ভিডিও হাইলাইটস। বেসবল খেলাটি জাপানিদের সংস্কৃতিতে কতটা মিশে আছে, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোর নিখুঁত রেকর্ডও সেখানে সংরক্ষিত আছে।
একটি সুনির্দিষ্ট খেলাকে ঘিরে জাপানে এমন আধুনিক জাদুঘরের বাস্তবায়ন যেখানে চোখে পড়ার মতো, সেখানে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা রূপকথার গল্পের মতো পিছিয়ে। আমাদের দেশে নির্দিষ্ট কোনো খেলা বা ক্লাবের ইতিহাস সংরক্ষণ তো দূরের কথা, সার্বিক ক্রীড়া ঐতিহ্য নিয়ে একটি ‘জাতীয় ক্রীড়া জাদুঘর’ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়নি। ২০০৩ সালে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পাওয়া সেই ঐতিহাসিক ট্রফিটির হদিস পর্যন্ত আজও মেলেনি—যা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার উদাসীনতা ও করুণ চিত্রকেই ফুটিয়ে তোলে।

























