Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সের পাহাড়ি অঞ্চলেও বর্ণবৈষম্য ও ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরবদের জোরালো প্রতিবাদ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

ফ্রান্সের পাহাড় ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার নিয়েও এবার বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে ফ্রান্সের পাহাড়ি অঞ্চলকে কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য ‘নিরাপদ’ ও বৈচিত্র্যহীন স্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ, আরব ও মুসলিম তরুণ-তরুণীরা ‘ওয়াল্লাহ, আমরা আসছি’ স্লোগানে পাহাড়, বন ও প্রকৃতিতে নিজেদের সরব উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

গত আগস্টে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে আলপস পর্বতমালার দৃশ্যের সঙ্গে একটি বিতর্কিত মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। সেখানে পাহাড়ি এলাকাকে ফ্রান্সের এমন একটি বিরল স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে ‘ওয়াল্লাহ’ ও ‘গুচি ক্যাপ’ পরা মানুষ নেই এবং যেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবা যায়। ফরাসি কথ্য ভাষায় আরবি ‘আল্লাহর কসম’ অর্থবোধক ‘ওয়াল্লাহ’ শব্দটি বেশ পরিচিত। ভিডিওটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা হলেও এর স্ক্রিনশট ও বক্তব্য ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর পরই একদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য আসতে শুরু করে। এসব মন্তব্যে ফ্রান্সের শহরতলির শ্রমজীবী ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি প্রকৃতি দূষিত করা কিংবা অসভ্য আচরণের মতো ভিত্তিহীন অভিযোগও তোলা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এই নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে ভিন্নধারার আন্দোলন গড়ে তোলেন তরুণ-তরুণীরা। ‘ওয়াল্লাহ, আমরা আসছি’ স্লোগানকে সামনে রেখে তারা পাহাড়, বন, হাইকিং ট্রেইল ও ঘোড়ার পিঠ থেকে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন। তাদের স্পষ্ট বার্তা—প্রকৃতি কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ বা জনগোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তি নয়, বরং এসব স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সবার সমান অধিকার রয়েছে।

এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যুক্ত হয়েছেন পরিমিত পোশাকের স্পোর্টস ব্র্যান্ড ‘কামাক’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জেনাব আলাব্বার। হিজাব পরিহিত আলাব্বার নিজের বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ি পথে হাঁটার একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকৃতিকে আমরাও সমানভাবে ভালোবাসি।’ তার মতে, ফ্রান্সে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় মিশে যাওয়ার কথা বলা হলেও, উন্মুক্ত স্থান ও কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণে এক ধরনের অদৃশ্য বাধা দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী জেনাব আলাব্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের মানসিকতা সমাজে বৈষম্য টিকিয়ে রাখছে এবং এর বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের সোচ্চার হওয়া জরুরি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সের পাহাড়ি অঞ্চলেও বর্ণবৈষম্য ও ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরবদের জোরালো প্রতিবাদ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের পাহাড় ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার নিয়েও এবার বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে ফ্রান্সের পাহাড়ি অঞ্চলকে কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য ‘নিরাপদ’ ও বৈচিত্র্যহীন স্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ, আরব ও মুসলিম তরুণ-তরুণীরা ‘ওয়াল্লাহ, আমরা আসছি’ স্লোগানে পাহাড়, বন ও প্রকৃতিতে নিজেদের সরব উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

গত আগস্টে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে আলপস পর্বতমালার দৃশ্যের সঙ্গে একটি বিতর্কিত মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। সেখানে পাহাড়ি এলাকাকে ফ্রান্সের এমন একটি বিরল স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে ‘ওয়াল্লাহ’ ও ‘গুচি ক্যাপ’ পরা মানুষ নেই এবং যেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবা যায়। ফরাসি কথ্য ভাষায় আরবি ‘আল্লাহর কসম’ অর্থবোধক ‘ওয়াল্লাহ’ শব্দটি বেশ পরিচিত। ভিডিওটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা হলেও এর স্ক্রিনশট ও বক্তব্য ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর পরই একদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য আসতে শুরু করে। এসব মন্তব্যে ফ্রান্সের শহরতলির শ্রমজীবী ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি প্রকৃতি দূষিত করা কিংবা অসভ্য আচরণের মতো ভিত্তিহীন অভিযোগও তোলা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এই নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে ভিন্নধারার আন্দোলন গড়ে তোলেন তরুণ-তরুণীরা। ‘ওয়াল্লাহ, আমরা আসছি’ স্লোগানকে সামনে রেখে তারা পাহাড়, বন, হাইকিং ট্রেইল ও ঘোড়ার পিঠ থেকে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন। তাদের স্পষ্ট বার্তা—প্রকৃতি কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ বা জনগোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তি নয়, বরং এসব স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সবার সমান অধিকার রয়েছে।

এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যুক্ত হয়েছেন পরিমিত পোশাকের স্পোর্টস ব্র্যান্ড ‘কামাক’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জেনাব আলাব্বার। হিজাব পরিহিত আলাব্বার নিজের বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ি পথে হাঁটার একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকৃতিকে আমরাও সমানভাবে ভালোবাসি।’ তার মতে, ফ্রান্সে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় মিশে যাওয়ার কথা বলা হলেও, উন্মুক্ত স্থান ও কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণে এক ধরনের অদৃশ্য বাধা দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী জেনাব আলাব্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের মানসিকতা সমাজে বৈষম্য টিকিয়ে রাখছে এবং এর বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের সোচ্চার হওয়া জরুরি।