চারপাশের চেনা পৃথিবীর দ্বান্দ্বিক বাস্তবতাকে যেভাবে অনুভব করছেন দিদার, তা অন্য কারও পক্ষে অনুধাবন করা সহজ নয়। মেঘের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া দুটি তারার দৃষ্টি কি কেবলই দিদারের ওপর, নাকি ঘটে চলা পারিপার্শ্বিক ঘটনার দিকে—তা স্পষ্ট নয়। গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখন এই তারাগুলো যেন কেবল তার একাকীত্বের সঙ্গী হয়েই আকাশপানে চেয়ে থাকে। চারপাশের এই নীরবতার সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য আকাশ, চাঁদ আর তারা কত না রূপ বদলায়!
ঘটনাটি ঘটে চলেছে একটি ব্যস্ত শহরে, যেখানে পাশাপাশি দুটি পরিবার যুগ যুগ ধরে বসবাস করলেও কখনো একে অপরের খোঁজখবর নেয় না। মাটির কাছাকাছি থাকা পাশাপাশি দুটি বস্তিঘরের মাঝে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এই জীবনে যেন পরস্পরকে না দেখার এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। চতুর্থ তলার নতুন ফ্ল্যাটের বারান্দার বাতি নিভিয়ে দিদার যেভাবে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তাতে মনে হচ্ছে সামনে এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা জীবনের নানা জটিল ও ব্যাখ্যাতীত রূপকে সামনে নিয়ে আসবে।
একটু দূরে শুয়ে থাকা এক তরুণীর গতিবিধি দিদারের নজর কেড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি হয়তো কোনো কাব্যিক ভাবনায় ডুবে যাবেন, যার হয়তো কেন্দ্রে রয়েছে সিঁড়িতে বসে থাকা কোনো এক তরুণ। অন্যদিকে, কিছুটা দূরত্বে আরেকটি ঘরের দৃশ্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে জীবন ও সৃষ্টির কোনো উন্মাদনা নেই, বরং মৃত্যুর ছায়া ঘনিয়ে এসেছে। এক বয়োবৃদ্ধ মানুষ শয্যাশায়ী, আর তার চারপাশে কিছু মানুষ চুপচাপ বসে অপেক্ষা করছেন আসন্ন শোথের জন্য। সৃষ্টি আর ধ্বংসের এই চিরন্তন দ্বন্দ্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দিদার নতুন করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন।


























