মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অত্যন্ত কঠোর ও অনড় অবস্থান পুর্নব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মমদানি। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক শহরে আগমন করলে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ট্রাম্পের সঙ্গে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে একটি বৈঠক শেষে বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমদানি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মমদানি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তার দৃষ্টিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ ‘গণহত্যার স্থপতি’। গাজা যুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত বলে তিনি জোরালো দাবি জানান। আন্তর্জাতিক আদালতের বিবেচনায় অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন বলে ঘোষণা দিলেও, বর্তমান বাস্তবতায় মমদানি স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঠেকানোর কিংবা তাকে নিজ হাতে গ্রেপ্তার করার কোনো ধরনের আইনগত ক্ষমতা তার প্রশাসনের নেই। তা সত্ত্বেও আগামী বৃহস্পতিবার নির্ধারিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে এবং তার এই উপস্থিতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশেও তিনি নিজে অংশ নেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মমদানির মধ্যকার সাম্প্রতিক এই বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে মূলত মার্কিন অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেয়র মমদানির প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করেন যে তিনি নিউইয়র্কের একজন ভালো মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মেয়র জোহরান মমদানিও নিউইয়র্ক সিটির সার্বিক উন্নয়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাসে বড় ধরনের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শহরের সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার স্বার্থে তিনি ট্রাম্পসহ যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।























