মালয়েশিয়ায় কঠোর অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সঙ্গে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সারা দেশে ৯ হাজার ৭০০টিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও অধিক বিদেশি নাগরিককে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) অপারেশনস বিষয়ক উপমহাপরিচালক দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি সংবাদমাধ্যমের কাছে এই পরিসংখ্যান ও তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, আটককৃত মোট ৫৭ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি জনকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব বিশেষ অভিযানগুলো থেকে পাকড়াও করা হয়েছে, এবং বাকি ২২ হাজারেরও অধিক বিদেশিকে দেশটির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন প্রবেশপথ কিংবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হস্তান্তরের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৬০ দিনের এই দীর্ঘ কার্যক্রমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭টি করে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট বাহিনী।
সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাট শ্রী কলামে একটি সমন্বিত ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপমহাপরিচালক এসব তথ্য তুলে ধরেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের (এপিএম) যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত ফ্ল্যাট শ্রী কলামের ওই অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় ১৯ জন বিদেশি নাগরিককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। অভিবাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, চলমান এসব অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা, বৈধ ও নবায়নকৃত ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার করার মতো গুরুতর অপরাধগুলো সবচেয়ে বেশি চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কেবল সাধারণ বিদেশি শ্রমিক বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধেই নয়, বরং এই অবৈধ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা নিয়োগকর্তা, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি কিংবা আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিকদের বিরুদ্ধেও সমানতালে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দাতুক লোকমান এফেন্দি। কোনো নিয়োগকর্তা যদি বৈধ কর্মসংস্থান পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যতিরেকে কোনো অবৈধ অভিবাসীকে কাজে নিয়োজিত করেন কিংবা আশ্রয় দেন, তবে তার বিরুদ্ধেও কড়া মামলা দায়ের করা হবে। একইভাবে, অবৈধ অভিবাসীদের কাছে কোনো ধরনের আবাসন বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও কঠোরভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিভিন্ন অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগে মোট ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন করে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এদিকে, মালয়েশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লোকমান এফেন্দি বলেন যে, কোথাও কোনো অবৈধ অভিবাসীর উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এলে কেউ যেন নিজে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন; বরং সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সম্ভব হলে ছবিসহ সরাসরি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি, যাতে প্রশাসন দ্রুত ও সুশৃঙ্খল উপায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।


























